শাহরাস্তি থানায় ৫ মাসে মাদক মামলার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, জনমনে উদ্বেগ
- আপডেট সময় : ০৩:৪০:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬ ১০১ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিনিধি: বিগত সময়ের তুলনায় বিগত ৫ মাসে অবিশ্বাস্য হারে বেড়েছে শাহরাস্তিতে মাদক মামলা। প্রতিদিন মাদক উদ্ধারসহ আটক করা হচ্ছে ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের। ২ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে শাহরাস্তি থানার ওসি মীর মাহবুবুর রহমান যোগদানের পর থেকে মাদক বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে পুলিশের এই তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। শাহরাস্তি মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, বিগত ৬ মাসে শুধুমাত্র মাদক সংক্রান্ত মামলা হয়েছে ১৫০ টি, এতে আটক করা হয়েছে ১৮৬ জনকে। বিগত ৬ মাসে ২৫৬২ পিস ইয়াবা ১২ কেজি ৬৫০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। জাতীয় নির্বাচন পূর্ববর্তী সময়ে যোগদানের পর বিগত ৪ মাসে অবিশ্বাস্য হারে বেড়েছে মাদক মামলার সংখ্যা এটি থানা গঠিত হওয়ার পর থেকে সর্বোচ্চ। জুলাই মাসে শাহরাস্তি থানায় মামলা হয়েছে সর্বোচ্চ ৫০ টি, এরমধ্যে মাদক মামলার সংখ্যা ৩২ টি। লক্ষনীয় বিষয় হলো বিগত ৫ মাসে ধারাবাহিক ভাবে শাহরাস্তি থানায় মামলা সংখ্যা বাড়তে থাকে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে মামলার সংখ্যা ছিল ১৭ টি এরমধ্যে মাদক মামলা ১০ টি মাদক সংক্রান্ত মামলায় আটক করা হয়েছে ১৮ জনকে। মার্চ মাসে মাদক মামলার সংখ্যা বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে যায় ২০ টি মামলায় পুলিশের হাতে আটক হয় ৪৬ জন। মার্চে শাহরাস্তি থানায় মামলা হয় ৩০ টি। এপ্রিলে ৩২ টি মামলার মধ্যে ১৭ টি মাদক মামলা দায়ের করা হয়েছে এতে ৩০ জনকে আটক করা হয়। মে মাসে মামলার সংখ্যা ৪৪ টি তার মধ্যে মাদক মামলা ২৪ টি আটক হয়েছে ৩৪ জন। জুন মাসে মামলার সংখ্যা, মাদক ও আটক সব ক্ষেত্রেই লক্ষ্যণীয় হারে বৃদ্ধি পায়। জুনে সর্বমোট ৪৮ টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এতে মাদক মামলা হয়েছে ২৫ টি। আটক করা হয়েছে ৪৩ জনকে। জুলাই মাসে সর্বোচ্চ ৫০ টি মামলা দায়ের হয়েছে শান্তিপ্রিয় শাহরাস্তি থানায় এরমধ্যে ৩২ টি মামলা মাদক সংক্রান্ত। অস্বাভাবিক হারে এতো মামলা কখনো দেখেনি শাহরাস্তি থানার জনগণ।
কচুয়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল হাই চৌধুরী জানিয়েছেন, যেকোনো সময়ের তুলনায় বর্তমানে শাহরাস্তি থানায় মামলা সংখ্যা অনেক বেশি।
সামাজিক, রাজনৈতিক শান্তি শৃঙ্খলার অনন্য দৃষ্টান্ত শাহরাস্তি উপজেলার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যে হঠাৎ ভাটা পড়ার বিষয়টি জনগনকে ভাবিয়ে তুলেছে। সম্প্রতি সময়ে পুলিশের সঙ্গে মাদক ব্যবসায়ীর কথোপকথন সংবাদ মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দের সঠিক নেতৃত্বে যেকোনো এলাকার তুলনায় শাহরাস্তি উপজেলার পরিবেশ ছিল শান্তিপূর্ণ। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর শাহরাস্তিতে কোন প্রকার আইনশৃঙ্খলার অবনতির ঘটনা লক্ষ্য করা যায়নি। বর্তমানে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদ্বেগ জনক হারে মামলার বেড়াজালে জনগন জড়িয়ে যাওয়ার বিষয়টি সচেতন মহলকে ভাবিয়ে তুলেছে। পুলিশ সদস্যের মাদকের সাথে সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি চারদিকে ছড়িয়ে পরার কারণে মাদক উদ্ধার ও আটকের বিষয়টি নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। পুলিশের সফলতা এখন প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। অনেকেই দাবি করছেন যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে পুলিশের ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনতে হবে। জনগণের মধ্যে আস্থা অর্জন করতে হবে। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের আমলে পুলিশের নিরপেক্ষ ও জনবান্ধব হতে হবে। শাহরাস্তির ঐতিহ্য শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জনবান্ধব হওয়া ছাড়া কোন বিকল্প দেখছেনা কেউ।









